কেন আপনার রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের ডাক্তাররা আপনার রেকর্ড দেখেই চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন: রোগনির্ণয়, অসুখটি কোন পর্যায়ে আছে, এর আগে কী কী চিকিৎসা করা হয়েছে এবং তাতে আপনার শরীর কেমন সাড়া দিয়েছে। ভালো রেকর্ড থাকলে হাসপাতালের মতামত আরও সঠিক হয় এবং আপনার থাকার সময়ও কমতে পারে, কারণ অকারণে পরীক্ষা আবার করাতে হয় না।
MedPrax-এর সঙ্গে প্রথমবার কথা বলার আগে সবকিছু তৈরি রাখার দরকার নেই। আপনার অবস্থা বোঝার পর আমরা জানাই চিকিৎসক দলের কোন কাগজপত্র লাগবে এবং কীভাবে নিরাপদে সেগুলো পাঠাবেন।
রিপোর্ট ও সারসংক্ষেপ
সাম্প্রতিক কনসালটেশনের নোট, আগে হাসপাতালে ভর্তির ডিসচার্জ সামারি, অপারেশনের নোট এবং গত তিন থেকে ছয় মাসের রক্ত পরীক্ষার ফল জোগাড় করুন। দীর্ঘদিনের অসুখের ক্ষেত্রে প্রথম রোগনির্ণয়ের রিপোর্টও কাজে আসে। আপনার নিজের ডাক্তারের লেখা একটি ছোট চিঠি, যাতে আপনার রোগের ইতিহাস ও বর্তমান চিকিৎসার বিবরণ আছে, সঙ্গে আনার মতো সবচেয়ে সহায়ক কাগজগুলোর একটি।
ভারতের হাসপাতালগুলো ইংরেজিতে কাজ করে। অন্য ভাষার রিপোর্ট অনুবাদ করাতে হতে পারে, এবং যাত্রার আগে চিকিৎসক দল কোনগুলোর অনুবাদ চায় তা MedPrax আপনাকে জানাতে পারে।
স্ক্যান ও ছবি
MRI, CT, PET ও অ্যাঞ্জিওগ্রাফির ক্ষেত্রে ডাক্তারদের শুধু লিখিত রিপোর্ট নয়, ছবিগুলোও দরকার। ইমেজিং সেন্টারের কাছে পুরো স্টাডিটি DICOM ফরম্যাটে ডিস্ক, ইউএসবি ড্রাইভ বা ডাউনলোড লিংকে চেয়ে নিন। স্ক্রিনের ছবি তুলে আনলে বা প্রিন্ট করা ফিল্ম দেখে পড়া অনেক কঠিন। এক্স-রে ও আলট্রাসাউন্ডের রিপোর্টও কাজে আসে, বিশেষ করে সময়ের সঙ্গে কোনো কিছু কীভাবে বদলেছে তা যদি সেগুলোতে বোঝা যায়।
ক্যানসার ও অন্যান্য বায়োপসির প্যাথলজি
আপনার বায়োপসি বা ক্যানসারের সার্জারি হয়ে থাকলে প্যাথলজি রিপোর্ট অপরিহার্য। ভারতের অনেক ক্যানসার দল রোগনির্ণয় নিশ্চিত করতে এবং রিসেপ্টর বা জেনেটিক মার্কারের মতো বাড়তি পরীক্ষা করতে মূল স্লাইডগুলো, অথবা যে প্যারাফিন ব্লক থেকে স্লাইড কাটা হয়েছিল সেগুলো, নিজেরা দেখতে চায়। এগুলো কীভাবে হাতে পাবেন তা আপনার প্যাথলজি ল্যাবরেটরির কাছে জেনে নিন, এবং হাতের ব্যাগে বহন করুন।
ওষুধ ও অ্যালার্জি
আপনি যত ওষুধ খান তার একটি তালিকা লিখুন, ডোজ ও কতবার খান তা সহ; ইনহেলার, ইনজেকশন ও সাপ্লিমেন্টও বাদ দেবেন না। কোনো অ্যালার্জি এবং অ্যানেসথেসিয়ায় কোনো প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে তা লিখে রাখুন। পুরো সময়ের জন্য এবং বাড়তি কিছু দিনের জন্য আপনার নিয়মিত ওষুধ আনুন, মূল প্যাকেটে, সঙ্গে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি। রক্ত পাতলা করার ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও স্টেরয়েডের কথা বিশেষভাবে জানানো জরুরি, কারণ সার্জারির আগে এগুলো বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
যাত্রার দিন
মূল কাগজ, ডিস্ক ও স্লাইড হাতের ব্যাগে রাখুন, কখনোই চেক-ইন ব্যাগে নয়। ব্যাকআপ হিসেবে সবকিছুর প্রিন্ট করা বা ফোনে রাখা কপি সঙ্গে রাখুন, আর পাসপোর্ট, ভিসা অনুমোদন ও হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র একই ফোল্ডারে রাখুন। কেউ আপনার সঙ্গে গেলে তাঁকেও কপি দিন।