আগে হাসপাতাল, তারপর শহর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো হাসপাতাল এবং যে দল আপনার চিকিৎসা করবে: আপনার রোগের চিকিৎসায় তাদের অভিজ্ঞতা, তাদের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক রোগীদের তারা কীভাবে দেখাশোনা করে। শহরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিবারের একজনকে নিয়ে আপনাকে হয়তো সেখানে কয়েক সপ্তাহ থাকতে হবে। আপনার দেশ থেকে ফ্লাইটের যোগাযোগ, যে মাসে যাচ্ছেন সেই মাসের আবহাওয়া, খাবার এবং চারপাশে কোন ভাষা বলা হয়, এসবই থাকাটা কতটা স্বস্তির হবে তা ঠিক করে।
ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বেশিরভাগই ছয়টি মহানগর এলাকায়। প্রতিটিতেই আন্তর্জাতিক রোগী ডেস্ক, ইংরেজিভাষী কর্মী এবং রোগীদের প্রধান ভাষাগুলোর দোভাষীসহ স্বীকৃত হাসপাতাল আছে।
দিল্লি এনসিআর
দিল্লি এবং এর পাশের শহর গুরুগ্রাম ও নয়ডায় ভারতের অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক রোগী আসেন। এখানকার বড় মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ক্যানসারের চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি, নিউরোসার্জারি এবং শিশুদের সার্জারি হয়। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সরাসরি ফ্লাইট আছে, এবং আরবি ও রুশ ভাষার দোভাষী সহজেই পাওয়া যায়।
এপ্রিল থেকে জুনের গ্রীষ্ম খুব গরম, আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারির শীত ঠান্ডা, অনেক দিন বাতাসের মান খারাপ থাকে। ফুসফুস বা হার্টের সমস্যা থাকলে কোন মৌসুমে যাবেন তা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন।
মুম্বাই
মুম্বাই ভারতের আর্থিক রাজধানী। এখানকার পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলো ক্যানসারের চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি, অর্থোপেডিক্স ও আইভিএফের জন্য পরিচিত। উপসাগরীয় দেশ ও আফ্রিকার সঙ্গে ভালো ফ্লাইট যোগাযোগ আছে। সারা বছর আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষায় ভারী বৃষ্টিতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত ধীর হয়ে যেতে পারে। যানজটের কারণে হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।
চেন্নাই
চেন্নাই কয়েক দশক ধরে চিকিৎসার জন্য আসা যাত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ, আফ্রিকা, উপসাগরীয় দেশ ও মালদ্বীপ থেকে। এখানকার হাসপাতালগুলো হার্টের চিকিৎসা, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, অর্থোপেডিক্স, চোখের চিকিৎসা ও ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য পরিচিত। দৈনন্দিন খরচ মাঝারি। বছরের বেশিরভাগ সময় গরম থাকে, আর প্রধান বৃষ্টি হয় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে।
বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ
বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া সারা বছর মৃদু, যা সেরে উঠতে থাকা অনেক রোগীর কাছে আরামদায়ক, এবং এখানকার হাসপাতালগুলো হার্ট সার্জারি, অনকোলজি, নিউরোসায়েন্স ও অর্থোপেডিক্সে শক্তিশালী। হায়দরাবাদে বড় বড় হাসপাতাল গ্রুপ আছে, যেগুলো গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, লিভারের চিকিৎসা, ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও হার্টের চিকিৎসার জন্য পরিচিত; শহরটির জীবনযাত্রা সবচেয়ে বড় শহরগুলোর তুলনায় শান্ত, এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগসহ একটি আধুনিক বিমানবন্দর আছে। দুই শহরেই বড় হাসপাতালগুলোর কাছে প্রচুর সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট আছে।
কলকাতা
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অনেক রোগীর কাছে কলকাতা স্বাভাবিক পছন্দ: সড়ক, রেল ও আকাশপথে কাছেই, সর্বত্র বাংলা বলা হয়, আর খাবারও পরিচিত মনে হবে। এখানকার হাসপাতালগুলোতে হার্টের চিকিৎসা, অনকোলজি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিক্স ও কিডনির চিকিৎসা হয়। গ্রীষ্ম গরম ও আর্দ্র, আর শীত মৃদু।
সব শহরের জন্য কিছু ব্যবহারিক কথা
যতটা সম্ভব হাসপাতালের কাছে থাকুন, কারণ পরীক্ষা, ড্রেসিং বা ফিজিওথেরাপির জন্য হয়তো প্রতিদিন যেতে হবে। বড় হাসপাতালগুলোর কাছে নিরামিষ, হালাল ও আন্তর্জাতিক খাবার সহজেই পাওয়া যায়, এবং অনেক হাসপাতাল আপনার খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। স্থানীয় সিম কার্ড নিতে পাসপোর্ট ও ভিসা লাগে, আর অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সিই চলাফেরার সবচেয়ে সহজ উপায়।
সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হলে MedPrax একাধিক শহরের হাসপাতাল তুলনা করে, এবং আপনি বেছে নেওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসা ও থাকার ব্যবস্থা করে।